গৃহবধূ নির্যাত‌ন, পেঁচারথ‌লে গ্রেফতার স্বামী
গৃহবধূ নির্যাত‌ন, পেঁচারথ‌লে গ্রেফতার স্বামী

 আগরতলা , ৯ নভেম্বর :  ‌আবারও গৃহবধূ নির্যাত‌নের ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এবারও স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হ‌য়ে জনৈক নববধূ থানায় অভিযোগ দায়ের করে সু‌বিচারের আর্জি জানিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এক মামলা রুজু করে পুলিশ গ্রেফতার করেছে নিগৃহীতার অভিযুক্ত স্বামীকে। ঘটনা ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার পেঁচারথল থানাধীন উত্তর ধনিছড়া এলাকার।

অভিযোগ, পেঁচারথল থানাধীন উত্তর ধনিছড়া এলাকার জনৈক বিদূর নমঃশূদ্রের ছেলে বিক্রমজিতের সঙ্গে ধলাই জেলার নালকাটা এলাকার নগেন্দ্র নমঃশূদ্রের মেয়ে সান্ত্বনার বিয়ে হয়েছিল প্রায় নয় মাস আগে। সম্পূর্ণ হিন্দু বিধি ও শাস্ত্র মতে। বিয়ের পর সান্ত্বনা তাঁর স্বামী বিক্রমজিতের ঘরে বেশ সুখেই ছিলেন। স্বামী বিক্রমজিৎ পেশায় ব্যবসায়ী। কিন্তু বিয়ের এক মাস পর থেকে বিক্রমজিৎ নমঃশূদ্র নাকি প‌ণের দা‌বি‌তে স্ত্রী সান্ত্বনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। দিন দিন বাড়তে থাকে স্বামীর অত্যাচারের মাত্রা। এতে স্বামীকে মদত করতেন সান্ত্বনার শাশুড়ি ও শ্বশুরও, অভিযোগ নববধূ সান্ত্বনার।

সাত্বনা বলেছেন, প্রতিদিন তাঁর স্বামী বিক্রমজিৎ তাঁকে কিল-ঘুষি-লাথি, এমন-কি লাঠি দিয়েও মারধর করত। তাছাড়া পুকুরের জলে ডুবিয়ে এবং আগুনে পুড়িয়ে মারারও নাকি চেষ্টা ক‌রে‌ছিল। স্বামীর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের মধ্যেও সান্ত্বনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। কিন্তু স্বামীর প্রচণ্ড মারপিটের ফলে তাঁর গর্ভজাত সন্তান পৃ‌থিবীর আলো-বাতাস দেখার আগেই অঙ্কু‌রে বিনষ্ট হয়ে যায়। তার পর তাঁকে স্বামীর পরিবার থেকে প্রথমে পেঁচারথল হাসপাতাল এবং পরে বহিঃরাজ্য অসমের ক‌রিমগঞ্জ জেলার বাজা‌রিছড়ার মাকুন্দা হাসপাতলে ভ‌রতি করা হ‌লে চি‌কিৎসকরা তাঁর প্রাণ রক্ষা ক‌রেন।

স্বামী ও তার পরিবারের দাবি, সান্ত্বনাকে তার বাবার বাড়ি থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা আনতে হবে। কিন্তু সান্ত্বনার বাবা নিতান্ত গরিব। তাই সান্ত্বনা তাঁর বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে অস্বীকার করলে শুরু হত অমান‌বিক শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের খবর বাবার বাড়িতে আসে। বাবা নগেন্দ্র নমঃশূদ্র ও তাঁদের আত্মীয় পরিজনরা দুবার পঞ্চায়েত সালিশি সভা করেন। দুবারই বিক্রমজিতের পরিবারের সাথে মীমাংসা হয়। কিন্তু এতেও অত্যাচারের মাত্রা কমেনি। দিন দিন সান্ত্বনার ওপর স্বামী বিক্রমজিতের অত্যাচার বাড়তেই থাকে।

গত কালীপুজোর আগের দিন স্বামী বিক্রমজিৎ সান্ত্বনার ওপর আচমকা চড়াও হয়ে মারধর  শুরু করতে থাকে। স্বামীর মারধরের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে সান্ত্বনা পাশের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিলেও সেই বাড়িতে গিয়ে স্বামী বিক্রমজিৎ সান্ত্বনাকে চুল ধরে টানতে টানতে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে এবং পাশের বাড়ির লোকজনদেরকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেয়। তার পর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পাশের বাড়ির লোকজন সান্ত্বনার বাবার বাড়িতে খবর দেন। সান্ত্বনার বাবার বাড়ির লোকজন মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে এসে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় সান্ত্বনাকে চিকিৎসা করিয়ে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ধলাই জেলার মনু থানা এবং ঊনকোটি জেলার পেঁচারথল থানায় নির্যাতিতা গৃহবধূ সান্ত্বনা নমঃশূদ্র ও তার মায়ের তরফ থেকে দু-দুটি অভিযোগনামা দায়ের করা হয়।


আরো পড়ুন