ভারতীয় নৌসেনার প্রথম মহিলা পাইলট, জাতীয় তাইকোন্ডা চ্যাম্পিয়ন, দক্ষ ডাইভার : শিবাঙ্গী স্বরূপ
ভারতীয় নৌসেনার প্রথম মহিলা পাইলট, জাতীয় তাইকোন্ডা চ্যাম্পিয়ন, দক্ষ ডাইভার : শিবাঙ্গী স্বরূপ

ওয়েবডেস্ক , ০৩ ডিসেম্বর : ডরনিয়ে ২২৮ টুইন টার্বোপ্রপ এয়ারক্রাফ্টের ককপিটে বসে চব্বিশের তরুণী বললেন, 'দেশ বিশ্বাস করেছে আমাকে। অনেক দায়িত্ব। জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।' ইতিহাস লিখেছেন এই তরুণী। শুধুমাত্র মহিলা বলে নয়, নিজের দক্ষতায় ও আত্মবিশ্বাসে। সব ছুঁত্‍মার্গ পিছনে ফেলে দেশের প্রতিরক্ষায় এক নতুন মাইলফলক সাব লেফটেন্যান্ট শিবাঙ্গী স্বরূপ। ভারতীয় নৌসেনার প্রথম মহিলা পাইলট, দেশের গর্ব। কোচির আইএনএস গরুড় স্টেশন থেকে গতকাল, ২ ডিসেম্বর নৌসেনার পাইলট হিসেবে দায়িত্বভার তুলে নেন শিবাঙ্গি। ইন্ডিয়ান নেভাল এয়ার আর্মের গুরুত্বপূর্ণ শাখা নৌ-বিমান কেন্দ্র আইএনএস গরুড় কোচিতে তৈরি হয়েছিল ১৯৫৩ সালে। এই কেন্দ্র থেকে প্রথম ডানা মেলেছিল শর্ট সিল্যান্ড ও ফায়ারফ্লাই বিমান। ৫৫০ নম্বর স্কোয়াড্রনও সেই সময়কারই। ইন্ডিয়ান ন্যাভাল এয়ার স্কোয়াড্রন (আইএএনএস) ৫৫০ থেকেই ডরনিয়ে ২২৮ এয়ারক্রাফ্ট চালানোয় হাতেখড়ি শিবাঙ্গীর। নজরদারি এই বিমান উড়িয়ে উপকূল ও সমুদ্রে যে কোনওরকম সন্দেহজনক গতিবিধি পরিদর্শন করে নৌসেনাকে রিপোর্ট পাঠানোই তাঁর কাজ।শিবাঙ্গীর কথায়, 'খুবই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমাকে। উপকূল ও সমুদ্র সুরক্ষার জন্য নজরদারি চালানো যেমন আমার কাজ, তেমনি যে কোনও বিপর্যয়ে উদ্ধারকাজের জন্যও প্রয়োজনীয় ভূমিকা থাকে আইএনএস গরুড় পরিচালিত এই উইংয়ের। আমার অঙ্গীকার দেশের সুরক্ষা। যে কোনও বিপদে ঝাঁপ দিতে পিছপা হব না।'দেশের প্রতিরক্ষায় নিবেদিত গোটা পরিবারই। বাবা জ্ঞান স্বরূপ নৌসেনার অফিসার। মা কল্পনা স্বরূপ বিশাখাপত্তনমে নেভি চিল্ড্রেন স্কুলের শিক্ষিকা। ছোট্ট শিবাঙ্গীর কাছে বাবা-মা'ই ছিলেন অনুপ্রেরণা। বলেছেন, 'বাবা নৌসেনার অফিসার। ছোট থেকেই বাবাকে নিজের কর্তব্যে একনিষ্ঠ থাকতে দেখেছি। তবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেব তখনও এমন স্বপ্ন দেখিনি।'বাবা জ্ঞান স্বরূপের সঙ্গে শিবাঙ্গি স্বপ্নের উড়ান ভিন্ন দিকে বাঁক দেয় বয়স যখন ১০ বছর। বিহারের মুজফফরপুরে ছোট্ট পরিবার শিবাঙ্গীদের। তিনি তখন ডিএভি পাবলিক স্কুলের ছাত্রী। পড়াশোনায় বেশ ভাল। শিক্ষিকাদের খুব প্রিয়। শিবাঙ্গী জানিয়েছেন, একবার দাদুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে তখন এক মন্ত্রীর আসার কথা ছিল। এলাকার লোকজন যখন মন্ত্রীকে দেখতে ও তাঁকে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে ব্যস্ত ছিল, শিবাঙ্গীর নজর ছিল হেলিকপ্টারের চালকের দিকে। তরুণী বলেছেন, 'যে হেলিকপ্টারে চড়ে মন্ত্রী নেমেছিলেন ও পরে ফিরে গিয়েছিলেন তার চালকই আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। মনে হয়েছিল একদিন আমিও এইভাবে আকাশে ডানা মেলব।'

আরো পড়ুন