করোনা-আতঙ্ক: দু'হাজার যাত্রী নিয়ে পাঁচটি দেশ ঘুরল জাহাজ, নোঙর ফেলতে দিল না কেউ, শেষে ভরসা কম্বোডিয়া
করোনা-আতঙ্ক: দু'হাজার যাত্রী নিয়ে পাঁচটি দেশ ঘুরল জাহাজ, নোঙর ফেলতে দিল না কেউ, শেষে ভরসা কম্বোডিয়া

ওয়েবডেস্ক , ১৩ ফেব্রুয়ারী : যাত্রা শেষ। তার পরেও দিনের পর দিন সাগরে ভেসে চলেছে জাহাজ। ঘুরে চলেছে এ-বন্দর থেকে সে-বন্দর। তুমুল দুশ্চিন্তায় ও বিরক্তিতে অস্থির হয়ে রয়েছেন দু'হাজারেরও বেশি যাত্রী। কিন্তু তাঁরা বুঝতে পারছিলেন না, দুশ্চিন্তা জাহাজের বাইরে আরও বেশি। কারণ ওই জাহাজের কোনও যাত্রীর থেকেই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা শোনা গেছিল। তাই পাঁচটি দেশের বন্দর ফিরিয়ে দেয় জাহাজটিকে। শেষমেশ কম্বোডিয়ার একটি বন্দরে নোঙর ফেলতে পেরেছে আমেরিকার জাহাজটি। 'দ্য ওডিসি অব দ্য এমএস ওয়েস্টারড্যাম' নামের জাহাজটি গত ১ ফেব্রুয়ারি হংকং থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। ১,৪৫৫ জন যাত্রী এবং ৮০২ জন ক্রু ছিল জাহাজে। কয়েক দিন সাগরে প্রমোদ বিহার করার পরে ফিলিপিন্সে যাত্রা শেষ করার কথা ছিল জাহাজটির। কিন্তু হংকং থেকে আসা জাহাজটিকে তাদের দেশের বন্দরে নোঙর করতে দেয়নি ফিলিপিন্স। জাহাজের যাত্রীরা করোনাভাইরাস বহন করতে পারে বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর পরে বিশাল সে প্রমোদতরী পৌঁছয় গুয়ামে। সেখানেও একই কথা শুনতে হয়। এর পরে একে একে তাইওয়ান ও তার পরে জাপানের বন্দরে জাহাজ ভেড়ানোর চেষ্টা করা হয়। অনুমতি মেলেনি। শেষমেশ গত বুধবার থাইল্যান্ডের বন্দরে গিয়ে শেষ চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাও সম্ভব হয়নি। এদিকে একের পর এক দিন পেরিয়ে যাওয়ায় জাহাজটির খাবার এবং জ্বালানি শেষ হয়ে আসছিল ক্রমে। থাইল্যান্ডেরই নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ওয়েস্ট্যারড্যাম জাহাজটিকে এসকর্ট করে নিয়ে যায় এবং থাই উপসাগরে দিয়ে আসে। সেখান থেকে দিক বদল করে কাম্বোডিয়ার দিকে চলে যায় জাহাজটি। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল বন্দরে নোঙর করে জাহাজটি।

আরো পড়ুন