লাদাখ পরিস্থিতি নিয়ে বিপিন রাওয়াত ও তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবেন রাজনাথ
লাদাখ পরিস্থিতি নিয়ে বিপিন রাওয়াত ও তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবেন রাজনাথ

ওয়েবডেস্ক , ১০ জুলাই : পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার বিকেলে বৈঠক করবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেই বৈঠকে থাকবেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত ও সেনাবাহিনী, নৌসেনা ও বায়ুসেনার প্রধানরা। লাদাখের বর্তমান পরিস্থিতির জানার পাশাপাশি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা হবে ওই বৈঠকে। ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে গালওয়ান উপত্যকা-সহ একাধিক জায়গা থেকে নিজেদের বাহিনীকে পিছনে সরিয়ে নিয়েছে চিন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেছিলেন, 'ভারত ও চিনের মধ্যে কূটনৈতিক ও সেনাকর্তাদের আলোচনা চলছে। তা ধারাবাহিক চলবে। নিয়ন্ত্রণ রেখায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে দু'পক্ষই সচেষ্ট রয়েছে।' গালওয়ান উপত্যকা থেকে চিনা সেবনাবাহিনী সরতে শুরু করেছে তা গত সোমবারই জানা গিয়েছিল। মঙ্গলবার জানা যায়, শুধু গালওয়ান উপত্যকা নয়। বিতর্কিত হট স্প্রিং এলাকা থেকে অন্তত দু'কিলোমিটার পিছনে সরেছে লাল ফৌজ। ১৫ নম্বর প্যাট্রলিং পয়েন্ট থেকে পুরোপুরি বাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়েছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ থেকে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৮-এর মধ্যে সারি সারি কালো ত্রিপল ঢাকা চিনের সেনার ক্যাম্প লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সেখান থেকেও ছাউনি উধাও হয়েছে। রবিবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে টেলিফোনে বৈঠক করেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। সেই ফোনালাপের পরেই সোমবার থেকে এই পদক্ষেপ শুরু করে লাল ফৌজ। যে গোগরা হট স্প্রিং এলাকায় ট্রাক, বুলডোজার নিয়ে ধীরে ধীরে ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে ঢুকে আসছিল চিনের লাল ফৌজ সেই জায়গাও পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। ভারতও নিজেদের বাহিনীকে পিছনে সরিয়ে আনে। ফলে তৈরি হয় বাফার জোন বা নিরপেক্ষ অঞ্চল। গত আট সপ্তাহ ধরে গালওয়ান উপত্যকা-সহ লাদাখ সীমান্তে ভারত-চিন উত্তেজনা বিরাজ করছে। ১৫ জুন রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটে। তার আগে ৬ জুন লেফটেন্যান্ট পর্যায়ের বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ভারত এবং চিন দু'পক্ষই ওই এলাকা থেকে বাহিনী সরিয়ে নেবে। সীমান্তে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তা প্রশমিত করতে দু'পক্ষই উদ্যোগী হবে। কিন্তু তারপর উত্তেজনা তো কমেইনি বরং চরম সংঘাতের ঘটনা ঘটে যায়। অনেকের মতে, ১৯৬৭ সালের পর ভারতের বিরুদ্ধে চিনা সেনাদের এমন আগ্রাসী রূপ আর দেখা যায়নি। ওই ঘটনার পর থেকে ভারত যেমন সামরিক তত্‍পরতা বাড়িয়ে দেয় তেমন বেজিংয়ের উপর অর্থনৈতিক চাপও তৈরি করে নয়াদিল্লি। টিকটক, শেয়ার ইটের মতো ৫৯টি চিনা অ্যাপ ভারতে নিষিদ্ধ করে দেয় ভারত। গত শুক্রবার হঠাত্‍ লেহ সফরে চলে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি চিনের উদ্দেশে লেহ থেকে মোদী বলেন, 'সাম্রাজ্য বিস্তারের জমানা খতম হয়ে গিয়েছে।' কাকতালীয় হল, তারপর থেকেই সেনা সরাতে শুরু করে চিন।

আরো পড়ুন