নয়া শিক্ষানীতিতে মাতৃভাষায় জোর, সঙ্গে পড়ুয়াদের 'গ্লোবাল সিটিজেন' বানানোর লক্ষ্য, দাবি মোদীর
নয়া শিক্ষানীতিতে মাতৃভাষায় জোর, সঙ্গে পড়ুয়াদের 'গ্লোবাল সিটিজেন' বানানোর লক্ষ্য, দাবি মোদীর

ওয়েবডেস্ক , ০৮ জুলাই : সম্প্রতি নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে সিলমোহর দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভা। এর পরে অনেক বিরোধী দলই এই নয়া নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধিতা করেছে। এবার প্রথমবার তাঁর সরকারের নয়া শিক্ষানীতি নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি বলেন, এই নীতিতে প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ, যে ভাষায় শিশুরা কথা বলে সেই ভাষায় শিক্ষা তাড়াতাড়ি হয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, চার বছর ধরে পর্যালোচনার পরে যে শিক্ষানীতি গ্রহণ করা হচ্ছে তাতে পড়ুয়াদের 'গ্লোবাল সিটিজেন' বানানোই লক্ষ্য। বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতিতে কোনও পক্ষপাত দুষ্টতা নেই। বরং একুশ শতকের ভারতের জন্য শক্ত ভিত গড়ে দেবে এই শিক্ষানীতি।
শুক্রবার 'ট্রান্সফর্মেশনলান রিফর্মস ইন হায়ার এডুকেশন আন্ডার ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি' বিষয়ে কনক্লেভের উদ্বোধনী ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই তিনি বলেন, 'এটা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই যে, যেই ভাষায় শিশুরা বাড়িতে কথা বলে সেই ভাষায় শিক্ষা দ্রুত হয়। এই কারণেই নতুন শিক্ষানীতিতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের মাতৃভাষায় শিক্ষার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে।' একই সঙ্গে মোদী দাবি করেছেন, এই শিক্ষানীতি নতুন ভারত গঠনের কাজ করবে। এই শিক্ষানীতি ঘোষণার পরে তামিলনাড়ু জানিয়ে দিয়েছে তারা এটা মানবে না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এডাপ্পাডি কে পালানিস্বামী জানিয়েছেন, তিনি কিছুতেই কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন শিক্ষানীতি রাজ্যে প্রয়োগ করবেন না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে তিনি আবেদন জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষানীতি পুনর্বিবেচনা করুন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও আপত্তি জানিয়েছে। রাজ্য সরকার এই নীতি পর্যালোচনা করার জন্য শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি কমিটিও তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে এদিন নরেন্দ্র মোদী দাবি করেন, নতুন শিক্ষানীতি নিয়ে দেশের কোথাও বড় কোনও আপত্তি শোনা যায়নি। তিনি বলেন, 'এটা আমাকে আনন্দ দিয়েছে যে, দেশের কোনও প্রান্ত থেকেই এই শিক্ষানীতি নিয়ে বড় কোনও প্রতিবাদ হয়নি, কেউ কোনও পক্ষপাতের অভিযোগও তোলেনি।' তিনি আরও জানিয়েছেন, চার বছর ধরে পর্যালোচনার পরেই এই নীতিতে সম্মতি জানানো হয়েছে। মোদী এদিন আরও বলেন, নতুন শিক্ষানীতি ভারতীয় পড়ুয়াদের নিজের মূল্যবোধ বজায় রেখেও 'গ্লোবাল সিটিজেন' (বিশ্ব নাগরিক) হয়ে উঠতে সাহায্য করবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, 'সাম্প্রতিক কালে দেশের শিক্ষানীতিতে তেমন কোনও বদল আনা হয়নি। এর ফলে শিক্ষায় কৌতূহল এবং কল্পনার যে গুরুত্ব তার কোনও অবকাশ নেই।' তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের যুবদের মধ্যে গভীর চিন্তাশক্তি এবং অভিনব ভাবনার বিকাশ প্রয়োজন। আর এর জন্য শিক্ষানীতিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্য, দর্শন এবং আগ্রহ থাকা প্রয়োজন।

আরো পড়ুন