চাকরিচ্যুত শিক্ষিকার আত্মহত্যা কি তবে টার্নিং পয়েন্ট ? জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটির পথ অবরোধে নানা প্রশ্ন জনমনে
চাকরিচ্যুত শিক্ষিকার আত্মহত্যা কি তবে টার্নিং পয়েন্ট ?   জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটির পথ অবরোধে নানা প্রশ্ন জনমনে

আগরতলা , ১০ জানুয়ারী : গণ অবস্থান থেকে পথ অবরোধ অবধি গড়াল ১০৩২৩ জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটির গণ অবস্থান আন্দোলন। শনিবার আরও এক চাকুরিচ্যুত শিক্ষিকার আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকেই সিটি সেন্টার স্থিত গণ অবস্থান মঞ্চে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। রাতেই বেশ কয়েকজন মাথা মুন্ডন করে প্রতিবাদ জানান। তাতেও সরকারের কোনও হেলদোল না দেখে রবিবার সকাল থেকে সিটিসেন্টার এলাকায় পথ অবরোধ করে বসে আন্দোলনকারীরা। 

    এই পথ অবরোধের ফলে ব্যাপক যানজট দেখা দেয় সংশ্লিষ্ট এলাকায়। তড়িঘড়ি পুলিশ প্রশাসন সতর্কতা অবলম্বন করে। দীর্ঘ সময় চলে এই আন্দোলন। উল্লেখ্য , সিপিআইএম সরকারের আমলে চাকরি পাওয়া প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা চাকরিচ্যুত হয়েছেন ৩১শে মার্চ ২০২০ সালে। রবিবার নয় মাস হয়েছে তাঁরা চাকুরিচ্যুত। সিপিআইএম সরকার কোনো সরকারি নিয়ম নীতি ছাড়াই ১০৩২৩ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরিতে নিয়োগ করেছিলেন। চাকরি যাবার ফলে তাঁরা তাঁদের পরিবারকে নিয়ে খুব কষ্টে দিনযাপন করছেন। তাঁদের ঘরে খাবার নেই। সেই কারণেই দীর্ঘ দিন ধরে তাঁরা তাঁদের চাকরির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আন্দোলন করছেন। 

    আগরতলা সিটি সেন্টারের সামনে বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে গণ অবস্থানে বসেছেন তাঁরা। শনিবার আন্দোলনকারীদের মধ্যে একজন পোস্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষিকা রুমি দেববর্মা অ্যাসিড পান করে আত্মহত্যা করেছেন। শেষমেশ কোনও আশা ভরসা না পেয়ে এদিন তাঁরা রাস্তায় নেমে অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। ফলে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ ও টিএসআর বাহিনীর জওয়ানরা এসে পৌঁছায়। জানা গিয়েছে, তিনি তাঁর এক বছরের শিশুটিকেও বিষপান করিয়েছেন। শিক্ষিকার এই মৃত্যুতে সবাই মর্মাহত। এদিন তাঁদের কাছে আবার খবর আসে, অমরপুরের থালছড়াতেও একজন ইউজিটি শিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন। দিনের পর দিন শিক্ষক-শিক্ষিকারা একের পর এক আত্মহত্যা করছেন। সেই কারণেই বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছে এখন একটাই আবেদন তাঁদের চাকরি যাতে তাঁরা আবার ফিরে পেতে পারে। 

আরো পড়ুন