বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ অপরাহ্ন

Headline :
শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে সড়ক দুর্ঘটনায় বিমানবাহিনীর ৩ জন নিহত উত্তরায় পিস্তল ঠেকিয়ে দিনেদুপুরে চিন্তাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ঃ চট্টগ্রামে ৩০ কোটি টাকার সম্পত্তি ২০ লাখ টাকায় নিলাম: উচ্ছেদ ও দখল নিয়ে গুরুতর অভিযোগ যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে সফলতায় শ্রমিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: কবির আহমেদ আশুলিয়ায় ১০ হাজার টাকার জন্য ভ্যানচালককে হত্যা: মূল ঘাতকসহ গ্রেফতার- ২ ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, শপথ নেন উপদেষ্টারা লিভার ভালো রাখতে মদপানসহ যে অভ্যাসগুলো ছাড়তে হবে শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয়ে বিচার করা উচিত নয়: হাসান আত্মঘাতী বোমা হামলায় মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা, পুলিশের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

২০১৪ ফাইনালে জার্মানির কৌশলে মেসিকে বোতলবন্দি করবে স্পেন?

ডেস্ক নিউজ / ৬৮ Time View
Update : বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ অপরাহ্ন

100

লিওনেল মেসি—ফুটবল ইতিহাসের এক জাদুকর, যাকে থামানোর ফর্মুলা খুঁজতে গিয়ে গত দুই দশকে বহু বাঘা বাঘা কোচ ব্যর্থ হয়েছেন।

তবে রোববার (১৯ জুলাই) নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণের আগে আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকরকে নিষ্ক্রিয় করার এক অমোঘ কৌশল স্পেনের সামনে প্রস্তুত রয়েছে। আর সেই কৌশলের মূল কাণ্ডারি হতে যাচ্ছেন স্প্যানিশ অধিনায়ক ও মাঝমাঠের জেনারেল রদ্রি।

ইতিহাস বলছে, মেসিকে ম্যান-মার্কিং বা একজন খেলোয়াড় দিয়ে সার্বক্ষণিক পাহারা দেওয়ার কৌশল সবসময়ই হিতে বিপরীত করেছে। কারণ মেসি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তার মার্কারকে নিজের পজিশন থেকে সরিয়ে সতীর্থদের জন্য ফাঁকা জায়গা তৈরি করে দেন।

এই ফাঁদ এড়াতে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির তৎকালীন কোচ জোয়াকিম লো একটি নিখুঁত ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছিলেন, যা এবার স্পেনের জন্য আদর্শ মডেল হতে পারে।

২০১৪ ফাইনালে জার্মানি মেসিকে কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় দিয়ে ম্যান-মার্ক করেনি। পরিবর্তে তারা মেসির চারপাশে একটি চলন্ত ‘জোনাল কেজ’ বা খাঁচা তৈরি করেছিল। মেসি যখনই মাঠের নির্দিষ্ট কোনো জোনে প্রবেশ করতেন, ঠিক তখনই নিকটবর্তী জার্মান ডিফেন্ডার তাকে চেপে ধরতেন। একই সঙ্গে আরও দুই-তিনজন খেলোয়াড় তার পাসিং লেনগুলো বন্ধ করে দিতেন।

অনেকটা রিলে রেসের ব্যাটন হস্তান্তরের মতো মেসিকে এক ডিফেন্ডার থেকে অন্য ডিফেন্ডারের জিম্মায় দেওয়া হতো।

সেদিন মাঝমাঠে বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার ডিফেন্সের সামনে মানবঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে মেসির সাপ্লাই লাইন পুরোপুরি কেটে দিয়েছিলেন।

পাশাপাশি বেনেডিক্ট হাওয়েভস ও ম্যাটস হামেলসরা মেসিকে তাদের বাঁ পা ব্যবহার করতে না দিয়ে দুর্বল ডান পায়ের দিকে খেলতে বাধ্য করেছিলেন।

এই সম্মিলিত রক্ষণাত্মক ডিসিপ্লিনই ছিল মেসিকে রুখে দেওয়ার মূল চাবিকাঠি।

স্পেনের তুরুপের তাস: রদ্রি 

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির সেই শোয়াইনস্টাইগারের ভূমিকাটি পালন করতে হবে স্পেনের রদ্রিকে। বিশ্বসেরা এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের কাঁধেই থাকবে মেসির কাছে বল পৌঁছানোর আগেই তা রুখে দেওয়ার মূল দায়িত্ব।

রদ্রি যেভাবে স্পেনকে ফাইনালে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন, ঠিক একইভাবে মেসিকে থামাতে তার তিনটি মূল অস্ত্র কাজ করবে। এই যেমন,

পাসিং লেন বন্ধ করা: ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝখানের পকেট স্পেসে মেসি যেন বল না পান, সেজন্য রদ্রি তার অসাধারণ পজিশনাল অ্যাওয়ারনেস দিয়ে বলের জোগান বন্ধ করবেন।

খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ: রদ্রি চলতি বিশ্বকাপে একক সংস্করণে সবচেয়ে বেশি সফল পাস দেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। স্পেন যদি বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখতে পারে, তবে মেসি বল পাওয়ার জন্য নিজের অর্ধে নেমে যেতে বাধ্য হবেন, যা ফাইনাল থার্ডে তার কার্যকারিতা কমিয়ে দেবে।

আর্জেন্টাইন কাউন্টার-অ্যাটাক রুখে দেওয়া: ট্রানজিশন পিরিয়ডে আর্জেন্টিনা যেন মেসিকে খুঁজে না পায়, সেজন্য শুরুতেই ট্যাকটিক্যাল ফাউল ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রেসিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের কাউন্টার-অ্যাটাক রুখে দেবেন রদ্রি।

তাই ফাইনালে আর্জেন্টিনার চরম শারীরিক ফুটবল ও তীব্র প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ মনোভাবকে সামলানোই স্পেনের জন্য বড় পরীক্ষা হবে।

স্প্যানিশ শিবির যদি রদ্রিকে ঘিরে মেসিকে সফলভাবে অবরুদ্ধ করতে পারে, তবে আর্জেন্টিনার রদ্রিগো ডি পলসহ অন্য খেলোয়াড়রা স্প্যানিশ ফুটবলারদের মেজাজ বিগড়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এই উসকানিতে পা না দিয়ে স্পেন যদি নিজেদের মানসিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তবে ঐতিহাসিক এই ফাইনালে জয়ের শেষ হাসি হয়তো লা রোখারাই হাসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


লাইভ টিভি