বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন
জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত উপশহরে আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল খান ওরফে ‘ড্রেজার সোহেল’-এর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তাকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ক্ষমতার পালাবদলেও থামেনি অপকর্ম
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সকালে সোহেল খানের নেতৃত্বে দিগপাইতে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়া হয়। বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। সে সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর নিয়মিত জুলুম-নির্যাতন চালাতেন।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও তার অপকর্ম বন্ধ হয়নি। বরং অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে তিনি বিএনপির কতিপয় অসাধু নেতার ছত্রছায় নিজ বাড়িতে অবস্থান করে ঢাকায় মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।
অভিযোগের ফিরিস্তি
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সোহেলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগগুলো হলো:
1. মাদক ও অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা: অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু-মাটি উত্তোলনের নামে চাঁদাবাজি। মাদকাসক্ত সোহেলের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
2. ছিনতাইকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা: এলাকার ছিঁচকে চোর ও ছিনতাইকারীদের ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত। ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল কম দামে কিনে মজুদ করার অভিযোগ।
3. অর্থ আত্মসাৎ:
– দিগপাইত উপশহরের ১৫ জন শ্রমিকের ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা
– মাটির ব্যবসার পার্টনার আলামিনের ৮ লাখ টাকা
– দিগপাইত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
4. পারিবারিক সহিংসতা: নিজ পিতাকে মারধরের অভিযোগে পিতার বাড়ি-ভিটা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
আইনের আওতায় আনার দাবি
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সোহেলের বাহিনী ও মাদকের কারণে দিগপাইতের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সাথে যোগসাজশে তিনি নতুন করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সোহেলের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে দিগপাইত এলাকার জননিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।