বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

Headline :
শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে সড়ক দুর্ঘটনায় বিমানবাহিনীর ৩ জন নিহত উত্তরায় পিস্তল ঠেকিয়ে দিনেদুপুরে চিন্তাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ঃ চট্টগ্রামে ৩০ কোটি টাকার সম্পত্তি ২০ লাখ টাকায় নিলাম: উচ্ছেদ ও দখল নিয়ে গুরুতর অভিযোগ যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে সফলতায় শ্রমিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: কবির আহমেদ আশুলিয়ায় ১০ হাজার টাকার জন্য ভ্যানচালককে হত্যা: মূল ঘাতকসহ গ্রেফতার- ২ ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, শপথ নেন উপদেষ্টারা লিভার ভালো রাখতে মদপানসহ যে অভ্যাসগুলো ছাড়তে হবে শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয়ে বিচার করা উচিত নয়: হাসান আত্মঘাতী বোমা হামলায় মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা, পুলিশের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

উত্তরায় ফুটপাত দখল করে কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ,

রিপোর্টার নাম ঃ / ১৯৯ Time View
Update : বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

283

উত্তরায় ফুটপাত দখল করে কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ,

#উচ্ছেদের পর২৪ঘন্টায় ফিরে আসে দোকান,

#কোটি টাকা আদায়;

#নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জনগণের

রিপোর্টার |খবর প্রতিদিন ঃ
রাজধানীর উত্তরা যেন ফুটপাত দখলের এক বড় বাজার। সড়কের পাশে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্মিত ফুটপাতের বড় অংশজুড়ে বসেছে ভ্যান, অস্থায়ী দোকান ও নানা ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কোথাও ফল-সবজি, কোথাও পোশাক, চা-নাস্তা, মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ, টায়ার, ফার্নিচার কিংবা নার্সারির দোকান।

এতে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ কমে গিয়ে পথচারীদের নামতে হচ্ছে মূল সড়কে।

বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাসিন্দা ও পথচারীদের অভিযোগ, শুধু অবৈধ দখল নয়—ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার বিনিময়ে নিয়মিত অর্থ আদায়ের একটি ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে। ছোট দোকানিদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক কিংবা মাসিক ভিত্তিতে টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, বিভিন্ন এলাকায় এভাবে আদায় করা অর্থের পরিমাণ মাসে কয়েক কোটি টাকা হতে পারে।

সেক্টরজুড়ে ফুটপাত দখলের অভিযোগ
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তরা ১ নম্বর সেক্টর থেকে ১৮ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত বিভিন্ন এভিনিউ, প্রধান সড়ক ও সংযোগ সড়কের ফুটপাতের বড় অংশেই কমবেশি অস্থায়ী দোকান বসেছে।

বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, মসজিদ, কবরস্থান, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়সংলগ্ন এলাকায় দখলের মাত্রা বেশি বলে অভিযোগ।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, অনেক দোকান ফুটপাতের সীমানা ছাড়িয়ে সড়কের অংশেও বিস্তৃত হয়েছে।

ফলে পথচারীদের গাড়ির চলাচলের জায়গা দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উত্তরার সোনারগাঁ জনপথ সড়কের দুই পাশের ফুটপাত ও রাস্তার অংশ দখল করে দোকান বসানোর বিষয়েও আগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
টাকা না দিলে দোকান বসানো কঠিন—ব্যবসায়ীদের অভিযোগ
একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্দিষ্ট এলাকায় দোকান বসাতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত টাকা দিতে হয়। কারও কাছ থেকে প্রতিদিন, আবার কারও কাছ থেকে সপ্তাহ বা মাসের হিসাবে টাকা নেওয়া হয় বলে তাদের দাবি।
একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন,
“আমরা গরিব মানুষ। দোকান না বসালে সংসার চলে না। আবার টাকা না দিলে দোকান রাখতে দেয় না। মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান হলেও কয়েক দিন পর আবার দোকান বসে।”
আরেক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, টাকা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। কারণ, এর প্রতিবাদ করলে দোকান সরিয়ে দেওয়া বা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিভিন্ন এলাকায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র ও ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের জায়গা নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ আদায়ের সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। অভিযোগের তালিকায় খালপাড় কবরস্থানের পূর্ব পাশে ভ্যান মার্কেট এলাকায় ঈমন; চণ্ডালভোগ গলিতে কাওসার ও হাসেম; মসজিদের সামনে শরিফ ও আবুল; খালপাড় ফার্নিচার মার্কেটে হারুন গং; ১২ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডে পাপ্পু; বাঁশ মার্কেট ও ১৫ নম্বর সেক্টরের পশ্চিম পাশে ফারুক ও দিদার; পূর্ব পাশে রহিম, হাফিজুর ও শফিকুল; কবরস্থান থেকে ২ নম্বর ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় শুব, যুব ও রশিদ; লেক দখলের অভিযোগে সুরুজ মোল্লা ও সুমন; সানজিদ আহমেদ সুমন, মোখলেস ও কবিরের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া টায়ার মার্কেট এলাকায় কামাল ও জয়নাল হাজারি; নার্সারি ও ১১ নম্বর ব্রিজসংলগ্ন ফুটপাতে ফয়সাল; শান্ত মরিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রানা, সবুজ ও ‘মণ্ডল বাহিনী’;ডিয়াবাড়ি, মিন্নত, রফিক, চুন্নু ও রুবেল; রাজলক্ষ্মী এলাকায় সুজন; হাউজ বিল্ডিং এলাকায় মোরসালিন; সুইসগেট-কামারপাড়া এলাকায় রবিন; ১০ নম্বর সেক্টরে জহির এক জহির দুই, গোলাপ, জসিম ও সেলিম; ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর সেক্টরে মোস্তফা, ইসমাঈল, সালাম, আফাজ আনোয়ার সহ আরও কয়েকজনের নাম স্থানীয় সূত্রে এসেছে।
আব্দুল্লাহপুর এলাকায় মিন্টু ও মিঠু, মাছের আড়ৎ এলাকায় মিলন ও তাঁর ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, দক্ষিণখান ও উত্তরখান এলাকাতেও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা নিয়ন্ত্রণ করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযান হয়, আবার ফিরে আসে দখল
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাঁদের ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় দোকান সরিয়ে নেওয়া হলেও অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যে একই জায়গায় আবার দোকান বসে যায়।
উত্তরার ডিয়াবাড়ি, ১১ নম্বর সেক্টরের খিদির খালসংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অভিযান চালানোর নজিরও রয়েছে।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মেট্রোরেলের কয়েকটি স্টেশনসংলগ্ন এলাকায়ও অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এক অভিযানে ২০ থেকে ২৫টি অবৈধ দোকান সরানো হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে—অভিযানের পর একই জায়গায় আবার কীভাবে দখল ফিরে আসে? কারা দোকান বসানোর অনুমতি দেয়? কারা নিয়মিত টাকা নেয়? আর এসব অর্থের ভাগ কোথায় যায়?
‘চাঁদাবাজির সঙ্গে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া’ও প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজস রয়েছে বলে—স্থানীয়দের অভিযোগ,
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ফুটপাত দখল ও চাঁদা আদায়ের পেছনে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি অংশের ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে রাজনৈতিক কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য দলিল বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেলে তা আলাদাভাবে যাচাই করে প্রকাশ করা হবে।

রাজধানীর অন্য এলাকাতেও ফুটপাত দখলের সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে হকারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং উচ্ছেদ অভিযানের তথ্য উঠে এসেছে।
পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে
উত্তরার বিভিন্ন সড়কে ফুটপাত দখলের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা। ফুটপাত দিয়ে চলাচলের সুযোগ না থাকায় তাঁদের মূল সড়কে নামতে হচ্ছে। ব্যস্ত সড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের পাশে হাঁটতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হয়।
এক পথচারীর ভাষায়, “ফুটপাত থাকলেও হাঁটার উপায় নেই। দোকান আর মালামালে সব বন্ধ। বাধ্য হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হয়।”
নগর ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুটপাতের মূল উদ্দেশ্য পথচারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা। ফুটপাত দখল করে স্থায়ী বা অস্থায়ী ব্যবসা পরিচালনা শুধু জনদুর্ভোগই বাড়ায় না, নগর ব্যবস্থাপনাকেও দুর্বল করে।
কোথায় কত টাকা আদায় হয়,
প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক দুইশত টাকা থেক পাঁচশত টাকা বা মাসিক ছয় হাজার থেকে পনের হাজার,পর্যন্ত ভাসমান দোকন থেকে নেওয়া হয়,ফার্নিচার দোকান ষাটহাজার থেকে একলাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়,
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। ফুটপাত দখল করে ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়া, এর বিনিময়ে অর্থ আদায় এবং উচ্ছেদের পর পুনরায় দখল—পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে বের করতে হবে।
তাঁদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চাঁদাবাজদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ফুটপাতের দখল স্থায়ীভাবে বন্ধে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত বিকল্প স্থান তৈরি করা গেলে একদিকে তাঁদের জীবিকার পথ খোলা থাকবে, অন্যদিকে জনসাধারণের চলাচলের জায়গাও দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সংস্করণে সংযুক্ত করা হবে।

পর্বঃ১


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


লাইভ টিভি