মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন

Headline :
উত্তরায় পিস্তল ঠেকিয়ে দিনেদুপুরে চিন্তাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ঃ চট্টগ্রামে ৩০ কোটি টাকার সম্পত্তি ২০ লাখ টাকায় নিলাম: উচ্ছেদ ও দখল নিয়ে গুরুতর অভিযোগ যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে সফলতায় শ্রমিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: কবির আহমেদ আশুলিয়ায় ১০ হাজার টাকার জন্য ভ্যানচালককে হত্যা: মূল ঘাতকসহ গ্রেফতার- ২ ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, শপথ নেন উপদেষ্টারা লিভার ভালো রাখতে মদপানসহ যে অভ্যাসগুলো ছাড়তে হবে শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয়ে বিচার করা উচিত নয়: হাসান আত্মঘাতী বোমা হামলায় মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা, পুলিশের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ‘এক দফা’ কোনো নেতার একক ঘোষণা নয়, এটি জনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন: নুরুল হক

মানবপাচার, ধর্ষণ ও ভয়ঙ্কর প্রতারণার চক্রের মুল হোতা মনির বেপারী গ্রেফতার ন্যায় বিচারের দাবী ফারজানা সহ ভুক্তভোগীদের।

ডেস্ক নিউজ / ৭৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন

115

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় এক মানবপাচার ও প্রতারণার চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরদার অভিযানে চক্রের মুল হোতা মনির বেপারী গ্রেফতার। মানবপাচার ধর্ষণ ও প্রতারণার একাধিক গুরুতর অভিযোগে দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে বেড়ানো মনির বেপারী কে রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‍্যাবের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে গত ১৪ মার্চ ২০২৬, শনিবার রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মনির বেপারী মাদারীপুর জেলার কালকিনী থানার দক্ষিণ রমজানপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার,নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মাদারিপুর দায়রা জজ কোর্টের মানব পাচার মামলার এজাহার সূত্রে ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে জানা যায়, প্রতারণার ফাঁদে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্রটি।

জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল থানার ধনকুড়াইল গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে শাহিনুর ইসলামের অভিয়োগ সুত্রে জানা যায় বিদেশে পাঠিয়ে চাকুরী দেওয়ার নাম করে,(এক লক্ষ্য পঞ্চাশ হাজার) টাকা নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে ঐ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, মনির বেপারীর প্রধান সহযোগী হিসেবে তার স্ত্রী তানজিলা আক্তার মাহাও দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মহিলাদের এনে দিতেন । তারা সাধারণ মানুষকে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত। একাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানান ,পরিকল্পিত প্রতারণার এই চক্রটি সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষদের টার্গেট করে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়। অনেকেই ভিটামাটি বিক্রি করে টাকা দিলেও শেষ পর্যন্ত প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এবং ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

মোছাঃ ফারজানা আক্তার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে অভিযুক্তের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট বাতিল এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তার আশঙ্কা, মনির বেপারী বিদেশে পালিয়ে গেলে আরও বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ফারজানা আক্তার এর স্বামী ২০১১ সালে মারা যায়,দুই মেয়ে নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছিলেন দুই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ২০১২ সালে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দিলেন সেখানে ৫ বছর প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করে বাবা মা পরিবার চালাতেন ফারজানা।

বিগত ২০১৭ সালে মানবপাচার চক্রের মনির বেপারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সময় মনির তাকে ইউরোপে উচ্চ বেতনের চাকুরীর প্রলোভন দেখায়,একই বছরের মার্চে দেশে ফিরে ইতালি পাঠানোর নামে ১২ লক্ষ্য টাকায় চুক্তি করে এবং মে, মাসে ৭ লক্ষ্য টাকা নেয় মনির, বাকি টাকা ভিসা এলে পরিধান করবে। একই বছরের জুলাই মাসে ভিসা আসার কথা বলে মিরপুর ১০,এর একটি বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করে। ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন যায়গায় নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। প্রবাস জীবনের সঞ্চয় করা আয় পর্যায়ক্রমে ব্ল্যাকমেইল করে মোট ( ৩৫ লক্ষ্য)টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফারজানার দাবি অসৎ উদ্দেশ্যে মনির, ফারজানার মেয়ে লামিয়া ইসলাম কে ঘটনা বলে দেয়,
লামিয়া এই নির্মম ঘটনায় মানুষিক ,চাপ সহ্য করতে না পেরে ২০২৪ সালের ৩০শে মার্চ আত্মহত্যা করেছে বলে জানায়,এছাড়াও ভুক্তভোগীর সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের ফলে গর্ভবতী হন।মনিরকে এই বিষয়ে জানিয়ে বিয়ের কথা বললে অনেক মারধোর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে একপর্যায়ে গর্ভপাতের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

পরবর্তী দুবাইয়ে নিয়ে গিয়ে সংসার করার প্রলোভন দেখিয়ে ফারজানার ভাগিনার কাছে থেকে (১ লক্ষ্য ৫০ হাজার) টাকা নেয় ২০২৪ সালের ২ই সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীকে দুবাই নিয়ে যায়, সেখানেও তার উপর নির্যাতন অব্যাহত রাখে একই বছরের অক্টোবর মাসে দেশে ফিরে উত্তরখান এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। ২০২৫ সালের ১৪ই জানুয়ারিতে তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। সন্তানের পিতৃপরিচয় চেয়ে বিয়ের কথা বললে মনির নবজাতক কে অস্বীকার করেন। একই বছরের ২০ই মে, ভোরের দিকে ভুক্তভোগীকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশিও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পুরো শরীর জখম করে ফেলে এবং তার কাছে থাকা নগদ অর্থ স্বর্ণালঙ্কার পাসপোর্ট ও ব্যাংকের স্বাক্ষরিত চেক নিয়ে পালিয়ে যায়। ফারজানার অবস্থা গুরুতর আশঙ্কাজনক হলে ঘটনাস্থলে বাড়ির মালিক ইমরান হোসেন তার স্ত্রী ও এলাকাবাসীরা ধরাধরি করে কুয়েত মৈত্রী বাংলাদেশ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাধীন রাখেন।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায়সহ দেশব্যাপী উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা দ্রুত পলাতক তানজিলা আক্তার মাহাসহ পুরো চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে,তারা আশা করছেন, কঠোর শাস্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা ও মানবপাচার চক্র নির্মূল হবে।

উত্তরখান থানা পুলিশের (সাব ইন্সপেক্টর সুরত চন্দ্র রায়)জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে,আরো তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তার সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


লাইভ টিভি