বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন

Headline :
শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে সড়ক দুর্ঘটনায় বিমানবাহিনীর ৩ জন নিহত উত্তরায় পিস্তল ঠেকিয়ে দিনেদুপুরে চিন্তাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ঃ চট্টগ্রামে ৩০ কোটি টাকার সম্পত্তি ২০ লাখ টাকায় নিলাম: উচ্ছেদ ও দখল নিয়ে গুরুতর অভিযোগ যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে সফলতায় শ্রমিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: কবির আহমেদ আশুলিয়ায় ১০ হাজার টাকার জন্য ভ্যানচালককে হত্যা: মূল ঘাতকসহ গ্রেফতার- ২ ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, শপথ নেন উপদেষ্টারা লিভার ভালো রাখতে মদপানসহ যে অভ্যাসগুলো ছাড়তে হবে শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয়ে বিচার করা উচিত নয়: হাসান আত্মঘাতী বোমা হামলায় মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা, পুলিশের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

‘আমি না থাকলে ওদের কী হবে’—চার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে মায়ের আর্তনাদ

ডেস্ক নিউজ / ৮২ Time View
Update : বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন

117

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের পাঁচ সন্তানের মধ্যে চারজনই বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। সংসারের এই কঠিন বাস্তবতায় বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে গেছেন স্বামী। এরপর থেকে চার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে একাই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন মা ফেরদৌসী বেগম।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডাঙ্গাপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ছোট ঘরেই চার সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন ফেরদৌসী বেগম। তাঁর সন্তানদের মধ্যে শরিফ উদ্দীন (২৭), শাবনুর খাতুন (২২), শাহিনুর খাতুন (১৫) ও আরিফ হোসেন (১৩) বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। অপর মেয়ে সাজেনুর খাতুন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন।

পরিবারটির কোনো জমিজমা নেই। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ফেরদৌসী বেগম স্থানীয় একটি হোটেলে কাজ করে সংসার চালান। চার প্রতিবন্ধী সন্তানের ভাতার টাকা প্রতি তিন মাস অন্তর পেলেও তা দিয়ে সংসারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ হয় না। অভাব-অনটনের মধ্যেই চলছে তাদের জীবন।

সাজেনুর খাতুন বলেন, আমার দুই ভাই ও দুই বোন বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। তাদের প্রতিবন্ধিতার কারণে বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। অনেক সময় অন্যের সহযোগিতা ছাড়া সংসার চালানো সম্ভব হয় না।

তিনি আরও বলেন, মা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হোটেলে কাজ করেন, শুধু আমাদের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দিতে। তাঁর কষ্ট আর দেখতে পারি না।

ফেরদৌসী বেগম বলেন, প্রায় ১৪ বছর আগে চার সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাদের বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে অনেক কষ্ট করে হোটেলে কাজ করে সন্তানদের লালন-পালন করছি। ছোট ছেলে আরিফ পঞ্চম শ্রেণিতে এবং মেয়ে শাহিনুর সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। চারজন প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি।

তিনি বলেন, সরকার থেকে যে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়, তা দিয়ে তাদের খাবার-দাবারের খরচও ঠিকমতো মেটে না। সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে কিছুটা স্বস্তি পেতাম। যতদিন বেঁচে আছি, সন্তানদের দেখাশোনা করব। তবে আমার মৃত্যুর পর তাদের কী হবে, সেই চিন্তাই আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


লাইভ টিভি